কারিপাতার উপকারিতা কি কি জেনে নিন [গবেষণায় প্রমানিত]

 

কারি গাছের পাতাকেই কারিপাতা বলা হয়, যা সুগন্ধি তৈরিতে ও খাবার বাসনাময় করতে ব্যবহৃত হয়৷ এর ইংরেজি নাম “কারি লিভস (Curry Leaves)”, বাংলায় ” কারিপাতা”৷ বাংলায় স্থানীয় কিছু নামও রয়েছে৷ যেমন: নিমভুত, বারসাঙ্গা ইত্যাদি৷


কারিপাতা গাছ এ দেশে পরিচিত গাছ হলেও সুগন্ধি গাছ হিসেবে এর ব্যবহার প্রায় নেই বললেই চলে৷


দক্ষিণ ভারতে রান্নাকে সুগন্ধিযুক্ত করতে কারিপাতার ব্যবহার চলে আসছে শতাব্দী ধরে৷ খাদ্যকে শুধু সুস্বাদু করাই নয়, এ পাতার কিছু ঔষধিগুণও রয়েছে৷ তাই আমাদের বুনো এই গাছটির পাতা তেজপাতার মতো মসলা হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে৷


কারি পাতা এদেশে কোথাও কোথাও নিমভূত গাছ হিসেবে পরিচিত৷ বনে জঙ্গলে জন্মে, আপনা-আপনি হয়৷ কেউ কখনও এ গাছ লাগায় না৷ এ গাছকে অবশ্য কেউ কেউ কবিরাজী কাছে ব্যবহার কাজে ব্যবহার কর৷ কিন্তু এর সুগন্ধি পাতা ব্যবহার করে এদেশে কেউ কখনও রান্না করেন না৷


হিমালয়ের পাদদেশ থেকে শুরু করে সুন্দরবন সংলগ্ন জনপদেও কারিপাতার গাছ জন্মাতে দেখা যায়৷ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে 1500 মিটার উচুঁতেও কারিপাতা গাছ জন্মাতে পারে৷ গাছ মাঝারি উচ্চতার, উচ্চতা 5 থেকে 6 মিটার হয়৷ পাতা দেখতে অনেকটা নিমপাতার মতো৷


কারিপাতার উপকারিতা কি কি

কারিপাতায় সালফারঘটিত এক ধরণের উদ্ধায়ী তেল থাকায় সুন্দর ঝাঁঝালো গন্ধ আসে৷ কাঁচা পাতা ডললে পাতা থেকে গোলমরিচ, লবঙ্গ, মরিচ, আদা ইত্যাদি মসলার মিশ্রিত এক ধরণের ঘ্রাণ বের হয়৷


এই সুগন্ধির জন্যই কারিপাতা রান্নায় মসলাপাতা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে৷ পাতা পক্ষল ও যৌগিক, নিমপাতার মতোই৷ তবে পাতাগুলো ডালের মাথা থেকে চারিদিকে সূর্যের রশ্নির মতো ছড়িয়ে পড়ে৷ তাই পত্রবিন্যাস সুন্দর দেখায়৷ প্রতিটি পাতায় অনুপত্রকের সংখ্যা 9 – 15 টি৷ অনুপত্রের কিনারা খাঁজকাটা, অগ্রভাগ সুচালো৷ ডালের মাথায় পুষ্পমঞ্জরীতে সাদা রঙের ফুল ফোটে, ফুলেও সুগন্ধ রয়েছে৷


ফেব্রুয়ারি, মে মাসের মধ্যে ফুল ফোটে৷ ফুল থেকে নিমের মতো ফল হয়৷ ফল ডিম্বাকার থেকে গোলাকার, কাঁচা ফলের রঙ সবুজ৷ পরিপক্ব হওয়ার সাথে সাথে লালচে থেকে কালো হয়ে যায়৷ বীজ থেকে সহজেই চারা হয়৷


কাঁচা কারিপাতা কয়েকটি পানিতে ধুয়ে রান্নার সময় তরকারিতে ছিড়ে দিলে রান্নায় সুঘ্রাণ ও ঝাঁঝ আসে৷ গরু ও খাসির মাংস, মিশ্র সবজি, ডাল ইত্যাদি কারিপাতা দিয়ে রান্না করা যায়৷ কারিপাতা শুকনো করে গুঁড়ো হিসেবে কারি পাউডার তৈরি করা যায় বোতলে ভরে রেখে রান্নার সময় তা ব্যবহার করা যায়৷ তবে কাঁচা পাতায় ঘ্রাণ বেশি৷


কারিপাতা, গাছ, শিকড় সবই ঔষধি গুণসম্পন্ন৷ গাছের শিকড় অর্শ রোগে উপকারী৷ আমাশয় ও ডায়রিয়া সারাতেও কারিপাতার বেশ উপকারিতা পাওয়া যায়৷ কয়েকটা সবুজ পাতা চিবিয়ে খেলে অর্শ রোগ থেকে মুক্তিলাভ করা যায়৷ পাতা সেঁকে ও তা ক্বাথ তৈরি করে খেলে বমিভাব দূর হয়৷ রেচনতন্ত্রের ব্যথা দূর করতে পাতার রস সেবন করার পরামর্শ দেওয়া হয়৷ শরীরে কোথাও কোনো বিষাক্ত পোকা কামড়ালে কাঁচা কারিপাতা ডলে সেখানে লাগালে দ্রুত ভালো হয়ে যায়৷


যকৃতের কঠিন ব্যথা সারাতে রোগীদের কারিপাতা গাছের শিকড়ের রস খাওয়ানো হয়৷ শুধু পাতা নয়, এর ফলও খাওয়া যায়৷ বীজ থেকে যে তেল পাওয়া যায় তার গন্ধ অনেকটা নারিকেল তেলের মতো৷ আর স্বাদ মরিচের মতা ঝাঁঝালো৷ তেল জিহ্বায় স্পর্শ করলে ঠান্ডা মনে হয়৷ এ গাছে সহজে কোনো রোগ পোকা আক্রমণ করে না৷


‘কারিপাতার উপকারিতা কি কি’ নিয়ে লেখা এই পোস্টটি কেমন লাগল অথবা কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট করে জানান।

LikeYourComment